শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বিমান ইন্ডিগোর ২ বিমানে ৫ যাত্রী করোনা পজিটিভ ! আতঙ্ক বিমান যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বোয়িং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল শুরু ১ জুন থেকে পরিবারের ৪ সদস্যকে আনতে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ ভাড়া! অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বিমান, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৩ রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেবিচক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে বেবিচকের যে নির্দেশনা মানতে হবে

আন্ডারওয়ার ইজ এ জাইঙ্গা

বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২০
  • ২১৪৯ বার

লেখাটি বিমান শ্রমিক লীগ-(সিবিএ) প্রেসিডেন্ট জনাব মশিকুর রহমানের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত। অনেক বড় লেখা। বিমান কর্মীরা অবশ্যই পড়বেন। আর বিমান নিয়ে যাদের আগ্রহের কমতি নেই তারাও দয়া করে পড়বেন। নিচে তা হুবহু তুলে ধরা হলো :

কোভিড ১৯ এর প্রভাবে বিমানের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্নই বন্ধ। তবে চীন বাউন্ড সিডিউল যাত্রীবাহী দুটি এয়ারলাইন্স নিয়মিত চলছে। এছাড়াও ননসিডিউল ডিপ্লোমেটিক কিছু চাটার্ড উড়োজাহাজ এবং দৈনিক ৪ /৫টি কার্গো ফ্লাইট নিয়মিত উঠানামা করছে। বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজের দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ তো চলছেই । এসব অপারেশনাল কাজ সংশ্লিষ্ট প্রতি শিফটে প্রায় ৬শ থেকে ৭শ বিমান কর্মী এখনও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এদের কোন লকডাউন নেই। কি পরিবেশে বা কি মানসিক উৎকন্ঠা নিয়ে এরা অফিস করেন তা শুধু তারাই জানেন, আর জানে তাদের পরিবার। বাসায় ফিরে প্রতিদিন সাবান গোসল করা , নিজের জামা কাপড় নিজে ধোয়া । বাচ্চাদের কাছ থেকে দূরে থাকা। সে একটা ঝক্কি ঝামেলার জীবন।

ডাক্তাররা যেমন বলেন তাদের পিপিই নেই কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলে সব কিছুই তাদের আছে। পর্যাপ্ত পিপিই মজুদ আছে। ঠিক বিমানও বলে সাবান শেম্পু, মাস্ক, পিপিই সবই প্রতিদিন দেয়া হয়, কোন ঘাটতি নেই । বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলে তিতা বাড়াতে চাই না। আপনারা যারা মাঠে কাজ করেন তারাই ভাল জানেন যে কতজন কর্মী, আর কত কি পান? ৪ জনে না হয় ১টি মাস্ক দল বদল করে ব্যবহার করবেন, মন্দ কি ! আপনি মরলেই বা কি ! বিমানের কিচ্ছু যায় আসে না।

এইতো ক’দিন আগেই মারা গেল তিনজন ক্যাজুয়াল শ্রমিক । কতজনের তখন মায়া কান্নার শেষ নেই ! কি পেয়েছে ঐ পরিবারগুলো ? দান খয়রাতের যতটুকু, ওই সার ।

কিন্তু কর্তাবাবুর সর্দি হলেই না মহাবিপদ! বিমান বন্ধ হয়ে যাবে ! তার গাড়িতে তিনি একা চড়েন তাও সেভলন সেনিটাইজ করে আতর গোলাপের নির্যাসে স্নাত রাখতে হয় । তার জীবন মহামূল্যবান।

অপরদিকে কর্মীরা ষ্টাফ বাসে গাদাগাদি করে গরু ছাগলের মতো অফিসে আসে। সোস্যাল ডিস্ট্যান্স না বলে কাউগোটাস্যাল ডিসস্ট্যান্স বলাই শ্রেয়। যাই হোক আমরা যা কিছুই বলবো সবই মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কর্তৃপক্ষ যা বলে তাই সঠিক ।

বেতন কাটাকাটি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্য উৎকন্ঠাতো সে গত দুই মাস যাবতই । ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের ওভার টাইম ভাতা বাকী, দৈনিক হাজিরা আহার ভাতা বন্ধ, তার উপরে আবার মোট বেতনের ১৫% কর্তন । ইনস্ট্যান্ট ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নেই! প্রকৃতপক্ষে সব মিলিয়ে না পাওয়ার পরিমান আরো বেশী। কেমনে চলবে সংসার ! বাড়ী ভাড়া, খাবার খরচ, বাচ্চাদের স্কুলের বেতন। লোনের কিস্তি!

কিন্তু ইদানীং আস্তে আস্তে কর্মকর্তাদেরও পিঠ গরম হচ্ছে। যারা এক সময় শ্রমিক লীগের প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচারণ করে তালিকা তৈরী করে প্রপাগান্ডা ছড়াতো আজকাল তাদের মলিন বদনে করুনার সুর। চিবায়ে চিবায়ে বলে – এভাবে আর কতো দিন ভাই ! শ্রমিক লীগ কিছু বলে না কেন। এসব মানুষ ইহুদী চরিত্রের লোক ! বিপদের সময় আপনার সাহায্য কামনা করে, বিপদ কেটে গেলে আপনাকে লাথি মারে। শ্রমিক লীগ বরাবরই এদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতেও হবে।

যখন নতুন ম্যানেজমেন্ট আসলে এরাই শ্রমিক লীগের সবচেয়ে ভাল সাংগঠনিক কর্মীদের একটি তালিকা সচিবালয় এবং ডিএ’র কাছে দিয়ে আসেন ! নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে পরিচালক প্রশাসন তার মোবাইল তালিকা দেখে দেখে ২৫ জন শ্রমিক লীগের নেতা কর্মীকে ঢাকার বাইরে বদলী করেছেন। এমডির নেতৃত্বে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের এক অভূত প্রমোশন বোর্ড যেন মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সিবিএ’র ৪ জন নেতাকে অজ্ঞাত কারনে ভাইভায় ফেল করিয়ে দিলেন। পাশ করিয়ে প্রমোশন দিলেন শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদককে। ( রাজনৈতিক কারনে নয় , শুধু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাবার জন্য উল্লেখ করলাম। আশা করি শ্রমিক দলের বন্ধুরা মনোকষ্ট নিবেন না)।

শ্রমিক লীগ, সিবিএ’র সভাপতিসহ ২০ জন নেতাকর্মীকে ক্যাডেট পাইলট নিয়োগের দুর্নীতির হাস্যকর অভিযোগ এনে দুদক দিয়ে হয়রানী করেছে, দুদকের ক্লিয়ারেন্স থাকা সত্ত্বেও সভাপতিসহ তিনজনকে অস্থায়ী বিদেশ পোষ্টিং যেতে দিলেন না। সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ১৫ জন নেতাকর্মী শোকজ চার্জশীট করেছে। শ্রমিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের একজন নেতাকেও ঢাকার বাইরে ট্রান্সফার বা প্রমোশন বঞ্চিত করা হয় নি। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি।

অথচ গোপালগঞ্জে বাড়ী হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিক লীগের নির্বাচিত সহ সাংগঠনিক সম্পাদককে লঘু অপরাধে ৪ মাস সাসপেন্ড রেখে ডিএ সাহেব বিচার করলেন – ১টা ইনক্রীমেন্ট হেল্ডআপ, এবং বিএফসিসি থেকে বের করে বিমান প্রেসে এটাসমেন্ট দিলেন। তাতেও তার জেদ মেটে নি। করোনায় সারা জাতি যখন আতঙ্কগ্রস্ত, মানুষ অভাবগ্রস্ত তখনই ডিএ সাহেব তাকে গত ২৩ এপ্রিল চাকুরীচ্যুত করলো! এ মহাদুর্যোগে সরকার যেখানে অপরাধীকেও জেল থেকে ছেড়ে দিচ্ছে সেখানে উচ্চ শিক্ষিত উঁচু পদের উঁচু মানুষ এত অমানবিক হয় কি করে ? মহিব সবচেয়ে ছোট একটি চাকুরী করে। একজন হেলপার। অষ্টম শ্রেণী পাশ। কখন কি কোথায় বলতে হবে তাও ছেলেটা ভাল করে বুঝে না। হুট হাট কথা বলে। ২৫ বছর সে ভালভাবে চাকুরী করল। তার নামে কোন চুরি, দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ গত ৫ বছরে। অর্থাৎ সিবিএ’র নেতা হবার পর। রাজউক স্কুলে তার দুটি বাচ্চা পড়ে। আজ তিনি দুটি বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবে ? কিভাবে চলবে ?

ফ্যাক্ট বিহাইন্ড, বিএফসিসির কোন এক ডিজিএম বিএফসিসি থেকে নিয়মিত মশলা , খাবার দাবার ব্যাগ ভরে বাসায় নিতেন। বিষয়টি পরিচালক গ্রাহক সেবাকে কে বা কাহারা অবগত করলে তিনি সকল কর্মকর্তার অফিস থেকে বের হবার সময় ব্যাগ এবং গাড়ী চেক করার নির্দেশ দেন। ধরা পরে যান ঐ মশলা চোর ডিজিএম। বন্ধ হয়ে যায় তার চুরি। তিনি অপমানবোধ করেন। তখন থেকেই ঐ ডিজিএম সিবিএ’র এ নেতার পিছে লাগেন। তিনি বলতেন মুহিব নেতার চাকুরী তিনি একদিন না একদিন খাবেন ই খাবেন। ঠিকই প্রপাগন্ডা করে ডিজিএম ই জিতলেন। তবে সত্যের জয় হবে ইনশাল্লাহ। এদের জীবন যাবে ট্রাকের তলে। পরিবার ছেলেমেয়ে দিয়ে এরা প্রমাণ পাবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ পার পায় না। প্রতিমন্ত্রী মীর নাসেরের করুন ইতিহাস সকলেরই জানা।

বিমানের ৬ হাজার লোক। একজন কি বলতে পারবেন যে, অবৈধ অসৎ কোন টাকার বিনিময়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি। তারপরও কর্তৃপক্ষ সিবিএকে বিশ্বাস করে না। সন্মান দেয়াতো দূরের কথা নিয়োমিত মিটিং এ অধস্তন কর্মকর্তাদের সিবিএকে ভেল্যু না দেয়ার জন্য বক্তৃতা করেন। এদের কক্ষে গেলে তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলে বিদায় করে। সিবিএ কে সবচেয়ে ঘৃণিত মনে করে। ক্ষমতা লোভী কিছু পুরান চোর কানাগলি দিয়ে ঠিকই বর্তমান ম্যানেজমেন্টের সবচেয়ে কাছের লোক হতে পেরেছে। অবশ্য তাদের কিয়দাংশ অবসরে গেছেন। তাদেরও জিব্বাহ অনেক বড়। অবসর পরবর্তী চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য কয়েকদিন দৌড় ঝাঁপ করেছিল কিন্তু বিধি বাম ! কোভিড১৯ তাদের সে স্বপ্নকে ইনফেক্টেড করে ফেলেছে। তবে যারা চাকুরীতে আছেন তারা আজ সাধু বনে গেছেন। বেশী বেশী করে মুখে আল্লাহ খোদার নাম জপে। এদের কেউ আছেন ঘুষ খান না কিন্তু লেবাছধারী ব্যাকবাইটার কুত্তা। চোরের মা’র বড় গলায় আদি চোরেরা বলেন সব চুরি বন্ধ, কোন দুর্নীতি হবে না। শ্রমিকদের তটস্থ করে রাখে। যে কোন সময় চাকুরী খেয়ে ফেলবে। বলবেই না কেন? তার বস, তার বসের বস সকলেইতো ঐ একই কথা বলে এবং বাস্তবায়নও করে। যা এখন কোম্পানী কালচারে পরিনত হয়েছে।

আমাদের কিছু জিএম, ডিজিএম, ম্যানেজার এমনকি কিছু চামচা কর্মচারী যারা তাদের ক্যাশিয়ার তারাও এখন ঐ তথাকথিত সৎ ব্যক্তিদের দলে। আমার কাছে জাজ্বল্য প্রমান আছে। এরা ইট বালি চুরি, দেয়াল ভাঙ্গা গড়া চুরি, তেল চুরি, পোলট্রীর দুধ চুরি, ভুয়া টিকেট বুকিং করে স্বার্থ হাসিল, ভাড়া গাড়ীর টেন্ডার, হেন কোন ক্ষেত্র নাই যেখান থেকে তারা ঘুষ দুর্নীতি না করেছে। অফিসার নিয়োগ, এমনকি সবচেয়ে গরীব ঘরের সন্তান যারা ক্লিনার, হেলপার সে নিয়োগেও এরা দুর্নীতি করেছে। তারাই এখন দাপটওয়ালা সৎ কর্মকর্তা!  হায়রে মানুষের চরিত্র !

তবে বিমান শ্রমিক লীগের নেতারা যে ধোয়া তুলসি পাতা, ঠিক তা নয়। কেউ কেউ নয় ছয় যে করে নি, সে গ্যারান্টি আমি দেই কি করে। তবে শুধু বিমান শ্রমিক লীগের নেতা নয়, সে অমৃত অন্য ইউনিয়নের নেতারাও কোটাভিত্তিক পেয়েছে। দু:খের বিষয় আমার সে বন্ধুরাও আজ মহা সাধু ! মাথায় তাদের কিস্তি টুপি ! শ্রমিক লীগের বিপক্ষে কর্তৃপক্ষের বিশ্বস্ত তথ্যবন্ধু !

আমার মৃত বাবা সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন । ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানী থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন মৃত্যু অবদি। তিনি কোন দিন কারো দোষ প্রকাশ করতেন না। তিনি আমাদের বলতেন “অন্যের দোষ বা দুর্বলতা গোপন রাখলে আল্লাহও খুশি হয়।” এ কারনে আজও ঐ দাপটওয়ালাদের দোষগুলো গোপন রেখে চলি।

আপনারা ভাল করেই জানেন বর্তমান কর্তৃপক্ষ শ্রমিক লীগের বিরুদ্ধে বর্ম নিয়ে ঘুরে। প্রকাশ্য বক্তৃতায় বলেন যে, শ্রমিকদের জন্য যত ওয়েলফেয়ার সবই কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করেন, এতে সিবিএর কোন ভুমিকা নেই। আপনারাও সে কথায় তালি মারতেন। কিন্তু যতটুকুই পেয়েছেন তাতে শ্রমিক লীগের কি ভুমিকা তার ইতিহাস আপনাদের অজানা নয়।

যাই হোক, শেষ কথায় আসি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতে বিমানকে টিকিয়ে রাখতে অবশ্যই সকল বিমান কর্মী পদ পদবী অনুযায়ী সেক্রিফাইস করতো। তারা অতীতেও করেছে। অতীতে কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমেই বড় বড় ক্রাইসেস ম্যানেজ করেছে। ড: মুমিনকে যেভাবেই মুল্যায়ন করিনা কেন তিনিও নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করতেন। কিন্তু বর্তমান কর্তৃপক্ষ নির্বাচিত বাপা, বোয়া , সায়েব, কেবিনক্রু , সিবিএ’কে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে একক সিদ্ধান্তেই বিমান কর্মীদের বেতন ভাতা কর্তন করেছে। বাঙ্গালী চরিত্র বিশ্লেষণে যা বুঝি, যেহেতু জাত ধর্ম নির্বিশেষে সকলকেই অপমানিত করেছে এবার তারা জেগে উঠবে । হয়তো কোভিড ১৯ আরো একটু বিশ্রাম দিবে।

আপনারা শুনে অবাক হবেন। করোনার কারনে গার্মেন্টস সেক্টর শ্রমিকদের বেতন কত শতাংশ কাটা হবে, শ্রম ভবনে এমন একটি মিটিং এ কোন এক কারনে আমারও উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। গার্মেন্টসের সিনিয়র শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, মালিকদের নেতৃবৃন্ , শ্রম প্রতিমন্ত্রী, সচিব সকলের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলো যে, যারা করোনার মধ্যে কাজ করেছে তাদের কোন বেতন কর্তন হবে না এবং যারা কাজ করতে পারে নি তারা ৬০ শতাংশ বেতন পাবেন। অথচ আমাদের বিমান কর্তৃপক্ষ ড্যাম কেয়ার ।

বিমান কর্মীরা আজ নিজের বেতন কাটার জ্বালার চেয়েও এমডিসহ ডেপুটেশনের পাঁচ কর্মকর্তার বেতন না কাটা নিয়ে তাদের গাত্রদাহ একটু বেশী অনুভূত হচ্ছে। প্রায় ২শ ফোন কলের সকলেরই একই প্রশ্ন। তবে এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ নিরোপেক্ষ। এটা তারা মোটেও অন্যায় করে নি। আইনের মারপ্যাচে তারা তাদের পাওনা বুঝে নিয়েছে। তারাতো বিমানে ইচ্ছা করে আসে নি। সরকার তাদেরকে নবুওয়াত দান করে বিমানের ত্রাণকর্তা হিসেবে পাঠিয়েছে। সুতরাং তাদের নেকি কাটা যাবে কেন?

একটা গল্প বলে শেষ করছি। এক চতূর ভদ্রলোক দর্জি দোকানে গিয়ে দর্জিকে জিজ্ঞাস করলেন প্যান্ট তৈরীর মজুরী কত? দর্জি বললেন ২০০ টাকা। ভদ্রলোক আবার জিজ্ঞাস করলেন হাফ প্যান্টের মজুরী কত ? দর্জি বললেন ১০০ টাকা । ভদ্রলোক আবার জিজ্ঞাস করলেন আন্ডারওয়ারের মজুরী কত ? দর্জি বললেন স্যার , সেটা কি ? জানো না মুর্খ ! আন্ডারওয়ার ইজ এ জাইঙ্গা। ও স্যার বুঝেছি! ৫০ টাকা দিয়েন । এবার ভদ্রলোক বললেন তিনি জাইঙ্গাই বানাবেন এবং দর্জিকে মাপ নিতে বললেন। দর্জি মাপ শুরু করলেন । কোমড়ের মাপ নেয়ার পর দর্জি জিজ্ঞাস করলো , স্যার ঝুল কতোটুকু দিব? বুদ্ধিমান ভদ্রলোক বললেন, “ টাকনু গীরা পর্যন্ত।” দরিদ্র দর্জি চতূর ভদ্রলোকের মুখের পানে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, মুখে কিছুই বলিতে পারিলেন না, তীব্র ক্ষোভে ঘৃণায় মনে মনে বলিলেন, “ শালা ! মাদারচোত !”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
★ এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost
error: Content is protected !!