রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বিমান ইন্ডিগোর ২ বিমানে ৫ যাত্রী করোনা পজিটিভ ! আতঙ্ক বিমান যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বোয়িং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল শুরু ১ জুন থেকে পরিবারের ৪ সদস্যকে আনতে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ ভাড়া! অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বিমান, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৩ রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেবিচক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে বেবিচকের যে নির্দেশনা মানতে হবে

দেশের উড়োজাহাজ-হেলিকপ্টারের যাত্রী আসনেও কার্গো পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে বেবিচক

বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ১৬৯ বার

দেশে নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ায় গত মার্চ থেকে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটের নিয়মিত ফ্লাইট। টিকিট বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় না থাকায় ব্যবসা গুটিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে দেশীয় চার এয়ারলাইনস। এ অবস্থায় যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলোকে কার্গো পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এমনকি ফ্লাইট ভায়াবল করতে কার্গো হোল্ডের পাশাপাশি যাত্রী আসনেও পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহনের জন্য দেশীয় এয়ারলাইনস ও হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিদেশী যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলোও এ সুবিধা নিতে পারবে। এরই মধ্যে এয়ারলাইনসগুলোর জন্য কার্গো পরিবহনের গাইডলাইনও তৈরি করেছে বেবিচক।

এতদিন উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের কার্গো হোল্ডে মালামাল পরিবহনের অনুমতি থাকলেও নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী করোনা দুর্যোগ চলাকালীন যাত্রী আসনেও পণ্য পরিবহন করতে পারবে অপারেটররা। তবে এজন্য নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বেশকিছু শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে। মূলত দেশীয় যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিকল্প আয়ের এ সুযোগ সৃষ্টি করেছে বেবিচক।

উড়োজাহাজের যাত্রী আসনে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয়া প্রসঙ্গে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলোর বহরে যেসব উড়োজাহাজ রয়েছে, সেগুলো দিয়ে যদি স্বাভাবিক নিয়মে পণ্য পরিবহন করা হয়, তবে তা লাভজনক হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি যাত্রীবাহী বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডে ১০ থেকে ১২ টন মালামাল পরিবহন করা যায়। কিন্তু কার্গো হোল্ডের পাশাপাশি যাত্রী কম্পার্টমেন্টেও যদি পণ্য পরিবহন করা হয়, তবে প্রতিবার একটি বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজ ২০ টনের বেশি মালামাল বহন করতে পারবে, যা ব্যবসায়িকভাবে ভায়াবল হবে। এ কারণে এয়ারলাইনসগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রী আসনেও পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের প্যাসেঞ্জার কম্পার্টমেন্টে পণ্য পরিবহনের জন্য এরই মধ্যে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বেবিচক থেকেও কার্গো পরিবহনের অনুমতি পেয়েছে এয়ারলাইনসটি। প্রাথমিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি থাকা গন্তব্যগুলোতে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বিমান।
করোনার এ আপত্কালে বিভিন্ন দেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিশেষ করে মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের সময় স্বাস্থ্য সেবাকে সচল রাখার জন্য চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্কসহ নানাবিধ পণ্য আমদানি করার কাজে ব্যবহার হবে উড়োজাহাজগুলো। এছাড়া জরুরি রফতানি পণ্যসামগ্রী বিশেষ করে গার্মেন্টস পণ্য, পচনশীল দ্রব্য, শাক-সবজি ইত্যাদি বিদেশে রফতানিতে ভূমিকা রাখবে এয়ারলাইনসগুলো।

এদিকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও। করোনা দুর্যোগে দেশের আমদানি-রফতানি সচল রাখার উদ্দেশ্যে এয়ারলাইনসটিকে এ অনুমোদন দিয়েছে বেবিচক।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ভারত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্গো পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে কার্গো পরিবহনে যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আছে, সেসব দেশেও তারা কার্গো পরিবহন করতে পারবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে দেশের আমদানি-রফতানি খাত। দেশের অর্থনৈতিক অচলাবস্থার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, এ কারণে আমরা ইউএস-বাংলার বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোকে কার্গো হিসেবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে জরুরি পণ্য আমদানি বিশেষ করে করোনার জন্য ওষুধ সামগ্রীর পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানি স্বাভাবিক রাখা যায়।

প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ১৬ মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেবিচক। তবে এ সিদ্ধান্ত শুধু শিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে। বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে চার্টার্ড ফ্লাইট এর আওতামুক্ত থাকবে। কার্গো, ত্রাণ-সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম চালু থাকবে।

বনিক বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
★ এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost
error: Content is protected !!