মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বিমান ইন্ডিগোর ২ বিমানে ৫ যাত্রী করোনা পজিটিভ ! আতঙ্ক বিমান যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বোয়িং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল শুরু ১ জুন থেকে পরিবারের ৪ সদস্যকে আনতে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ ভাড়া! অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বিমান, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৩ রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেবিচক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে বেবিচকের যে নির্দেশনা মানতে হবে

বিমান সংস্থাগুলোকে বিমানবন্দর ব্যবহারসহ বিভিন্ন চার্জে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০
  • ৩৩৭ বার

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে এয়ারলাইন্স খাত। নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রম না থাকায় দেউলিয়া হওয়ার পথে দেশীয় সব এয়ারলাইনস। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। যার পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোকে বিভিন্ন চার্জে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ২০২১ সাল পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল চার্জ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অ্যারোনটিক্যাল চার্জ ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া এয়ারলাইনসগুলোর কাছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া দেশী এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোকেও কিছু ছাড় দেয়ার সুপারিশ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

জানা গেছে, দেশের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার, রাডারের তথ্য ব্যবহার, ওভারফ্লাইংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এয়ারলাইনসগুলো থেকে বিভিন্ন চার্জ আদায় করে বেবিচক। এসব চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা আয় হয় বেবিচকের। কিন্তু মার্চ থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বেবিচকের আয় প্রায় শূন্যে পৌঁছে গেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, এয়ারলাইনসগুলোর চার্জে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। কারণ চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে এনবিআর। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে এটি কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সুষ্ট পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসগুলোকে দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চেয়ে গত মাসে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। চিঠিতে বলা হয়, সব উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের যাবতীয় নেভিগেশন, ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ পাঁচ বছরের জন্য মওকুফ করা; প্রণোদনাস্বরূপ এভিয়েশন শিল্পকে আগামী ১০ বছরের জন্য বিবিধ আয়কর ও ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান; অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক হারে জ্বালানি মূল্য ধার্যকরণ; যন্ত্রাংশ আমদানি পর্যায়ে ‘আগাম কর’ অব্যাহতি, বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে লেট ফি অন্যান্য দেশের মতো বার্ষিক ৬-৮ শতাংশ হারে ধার্য করা; বাংলাদেশী এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করলেও তাদের উড়োজাহাজগুলোর ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন চার্জ অভ্যন্তরীণ রুটের হারে ধার্য করা।

এর আগে গত মার্চে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ঝুঁকি নিরসনের কর্মপন্থা নিরূপণের জন্য জরুরি সাধারণ সভা করে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সভায় এওএবি সদস্যরা বলেন, বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় এয়ারলাইনস তথা এভিয়েশন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্বনামধন্য এয়ারলাইনস দেউলিয়া ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। এ খাত সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ সরাসরি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

পরবর্তী সময়ে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয় এওএবি। প্রস্তাবে এওএবি জানায়, সংকটকালে সিভিল এভিয়েশন চার্জ, যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম কর ও জ্বালানির ওপর আরোপিত কর বাতিল করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্তত দুই প্রান্তিকে ব্যাংক পাওনা সুদবিহীনভাবে ডেফার্ড পেমেন্টের ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে আসন্ন বাজেট প্রস্তাবনায় বিশদ দাবি তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে ১ এপ্রিল দেশের পর্যটন খাতে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আর্থিক ক্ষতির হিসাব করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে চিঠি দিয়েছে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) গ্লোবাল এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার ও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শাহীদ হামিদ। চিঠিতে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক ব্যবসা হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এভিয়েশন খাতে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো ব্যবসা হারাবে ৬০০ কোটি টাকার এবং এ খাতে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে দুই হাজার জনের। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারাবে ট্রাভেল এজেন্টরা, চাকরি হারাতে পারেন ১৫ হাজার।

বণিক বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
★ এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!