বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বিমান ইন্ডিগোর ২ বিমানে ৫ যাত্রী করোনা পজিটিভ ! আতঙ্ক বিমান যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বোয়িং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল শুরু ১ জুন থেকে পরিবারের ৪ সদস্যকে আনতে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ ভাড়া! অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বিমান, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৩ রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেবিচক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে বেবিচকের যে নির্দেশনা মানতে হবে

ব্র্যাক জরিপ: বিদেশ ফেরত ৮৭% ব্যক্তির আয়ের উৎস নেই

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০
  • ৬৫ বার

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে দেশে ফিরে আসেন হাজার হাজার প্রবাসী। ‘ফেরত আসা ৮৭% এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২% বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান’

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির সময়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭% এর এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩%। আর ৫২% বলছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির “বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব” শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে শুক্রবার (২২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর ফেরত এসেছেন এমন ৫৫৮ প্রবাসী কর্মীর সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬% ফিরেছেন মার্চে।

জরিপর অংশগ্রহণকারীদের ৪৫% এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ওমান এবং কুয়েত থেকে। বাকিরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের ২০ কর্মী ঢাকা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, খুলনা এবং যশোরে রয়েছেন এমন প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০% বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ৩৫% বলছেন, তারা ছুটিতে এসেছিলেন। ১৮% বলেছেন, তারা পারিবারিক কারণে চলে এসেছেন। ৭% বলেছেন, তাদের ফেরার সাথে করোনাভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই।

কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪% বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ১৪% বলেছন, তারা কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো মানতে পারেন নি। দুই শতাংশ বলেছেন, তারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
ফেরত আসার পর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪% জানিয়েছেন, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ১২ কাউন্সিলর অবশ্য তাদের সবাইকে মনোসামাজিক সেবা দিয়েছেন।

২৯% অভিবাসী বলেছেন, তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭% বলেছেন, এ ক্ষেত্রে পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৪% জানান, তাদের নিজেদের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৯% জানান, তাদের যে সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আরও এক-দুই মাস চলতে পারবেন। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩%। ১০% জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে তারা ঋণ গ্রহণ করেছেন। ১৪% প্রবাসী তাদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার তথ্য দিতে রাজি হন নি।

মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত এ জরিপে দেখা যায়, ফেরত আসা অভিবাসীদের ৮৪% এখনও জীবিকা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারেননি। ৬% জানিয়েছে, তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন। বাকিরা কৃষিভিত্তিক ছোটো ব্যবসা, মুদি দোকান বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন।

বিদেশ ফেরত এ অভিবাসীরা কোনো ধরনের সহায়তা পেয়ছেন কি না জানতে চাইলে ৯১% বলেছেন, তারা এখনও সরকারি বা বেসরকারি কোনো জায়গা থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পান নি। বাকি ৯% সরকারি বা বেসরকারি কোনো না কোনো জায়গা থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, “বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের সংকট এবং করোনা ভাইরাস তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর কী কী প্রভাব ফেলেছে সেটা জানতেই এ জরিপ। ফেরত আসা ৮৭% এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২% বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান।”

“আমরা দেখছি অনেকে ফেরত আসছেন। সামনের দিনগুলোতে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সরকার তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি শুধু সরকারের একার নয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। কারণ এ প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সবসময় সচল রেখেছেন। এমনকি করোনার সময়ও তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন,” যোগ করেন তিনি।

শরিফুল হাসান আরও বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে মোট ৫৫ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছেন তারা। কজেই এ সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশে আছেন এবং যারা ফিরে আসছেন।”

সমস্যা সমাধানে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এগুলো হলো, ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিরূপণ করে মনোসামাজিক সহায়তাসহ টেকসই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সহজ শর্তে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা, গন্তব্য দেশের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যেন কাজে ফিরতে পারেন সেই উদ্যোগ নেওয়া।

Dhaka Tribune

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
★ এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost
error: Content is protected !!