বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বিমান ইন্ডিগোর ২ বিমানে ৫ যাত্রী করোনা পজিটিভ ! আতঙ্ক বিমান যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বোয়িং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল শুরু ১ জুন থেকে পরিবারের ৪ সদস্যকে আনতে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ ভাড়া! অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বিমান, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৩ রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেবিচক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে বেবিচকের যে নির্দেশনা মানতে হবে

কাতারের কেবিন ক্রুদের পিপিই স্যুট, যাত্রীরা মাস্ক না পরলে ৪৭ লাখ টাকা জরিমানা

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৯৬ বার

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে কেবিন ক্রুদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) স্যুট যুক্ত করছে বিশ্বের বিভিন্ন বিমান সংস্থা। এ তালিকায় নাম লেখালো কাতার এয়ারওয়েজ। কাতারের পতাকাবাহী এই সংস্থার সব ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট ইউনিফর্মের ওপর হ্যাজম্যাট স্যুট পরে দায়িত্ব সামলাবেন। এছাড়া উড়োজাহাজের ভেতরে থাকাকালে তাদের চোখে সেফটি গুগলস, হাতে গ্লাভস ও মুখে থাকবে মাস্ক।

আগামী ২৫ মে থেকে কাতার এয়ারওয়েজের সব ফ্লাইটে প্রত্যেক যাত্রীর মুখ ঢেকে রাখা কিংবা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ভ্রমণকারীরা নিজেদের সঙ্গে মানায় ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, মুখ ঢাকার এমন উপকরণ ব্যবহার করলেই চলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিমান ভ্রমণের সময় যাত্রীদের মুখ ঢেকে রাখা বা মাস্ক ব্যবহারের জন্য জোর দিচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজসহ বিশ্বের অনেক এয়ারলাইনস। কাতারের উড়োজাহাজে মাস্ক ব্যবহার না করলে ৫৫ হাজার ডলার (৪৭ লাখ টাকা) জরিমানাসহ সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কেবিন ক্রুরা ফ্লাইটে একসপ্তাহ ধরে মাস্ক ও গ্লাভসের মতো পিপিই পরছেন। এবার বাড়তি সতর্কতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে হ্যাজমাট স্যুট। এছাড়া উড়োজাহাজে রাখা হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বড় বোতল। এটি কেবিন ক্রু ও যাত্রী উভয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আকবর আল বাকের বলেন, ‘যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে আমাদের উড়োজাহাজে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছি। বৈশ্বিক দুর্যোগের মধ্যে মানুষ যেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখছি। সুরক্ষাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ইন-ফ্লাইট সেবায় পরিবর্তন এনেছে কাতার এয়ারওয়েজ। বিজনেস ক্লাস কিউস্যুটের যাত্রীদের খাবার দিতে টেবিলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে ট্রে। খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত সব জিনিস ডিটারজেন্ট ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে সংস্পর্শ এড়াতে কাপড়ে মুড়িয়ে দেওয়া হবে এসব উপকরণ।

ইকোনমি ক্লাসের খাবার স্বাভাবিক নিয়মে পরিবেশন করবেন ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে যাত্রীদের উৎসাহ দেবেন তারা। যেমন নিয়মিত হাত ধোয়া ও মুখ স্পর্শ থেকে বিরত থাকা। বিমানের সব কম্বল ধোয়ার পাশাপাশি হেডসেট থেকে কানের ফোম পরিবর্তন করা হচ্ছে।

সংস্পর্শ ও জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কাতার এয়ারওয়েজের কেবিন ক্রুরা। ফ্লাইট উড্ডয়নের আগে ও অবতরণের পর যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের থার্মাল স্ক্যানিং করা হচ্ছে। কারও মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়লে তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কাতার এয়ারওয়েজের স্বল্প দূরত্ব ও মাঝারি দূরত্বের ফ্লাইটে কেবিন ক্রুদের দুটি দল থাকছে। একটি দল বিদেশগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করে। অন্যরা কাজ করেন ফিরতি পথে। দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কেবিন ক্রুদের অন্য দেশে রাতযাপন করতে হয়। তাই তারা কাতার এয়ারওয়েজ অনুমোদিত পরিবহনে চড়ে রুমে ঢুকে মানুষের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলছেন।

কাতার এয়ারওয়েজ স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখছে। উড়োজাহাজ জীবাণুমুক্ত রাখতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সমিতি (আইএটিএ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুসরণ করা হচ্ছে। কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জীবাণুনাশক রোবট স্থাপনে বিনিয়োগ করেছে এই সংস্থা।

বিশ্বব্যাপী আরোপিক অবরোধ (লকডাউন) পরিস্থিতিতে ৩০টির মতো গন্তব্যে নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থা। এ মাসে স্থগিত করা গন্তব্যগুলোতে পুনরায় ফ্লাইট শুরু করতে চায় কাতার এয়ারওয়েজ। জুনের মধ্যে ৮০টি গন্তব্যে ফ্লাইট চালানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের পরিবর্তনের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের ইউনিফর্ম ব্যাপক বদলেছে। নিত্য নতুন স্টাইল যুক্ত করায় এসব পোশাকে হালের ফ্যাশন ট্রেন্ড প্রতিফলিত হয়। কোভিড-১৯ সংকটে সেগুলোর ওপর জুড়ে বসছে সুরক্ষা ব্যবস্থা।

ফিলিপাইনস এয়ারলাইনস এবং এয়ার এশিয়া পিপিই অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ইউনিফর্ম চালু করেছে। এবার কাতার এয়ারওয়েজ এই পদক্ষেপ নিলো। ফিলিপাইনস এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুদের পোশাক ডিজাইন করেছেন এডউইন ট্যান।

এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের নতুন ইউনিফর্ম সাজিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফিলিপিনো ডিজাইনার পুই কুইনোনস। তার মতে, সুরক্ষামূলক এসব উদ্যোগ নতুন ধরনের স্বাভাবিকতা।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
★ এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost
error: Content is protected !!