বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বিমান ইন্ডিগোর ২ বিমানে ৫ যাত্রী করোনা পজিটিভ ! আতঙ্ক বিমান যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বোয়িং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল শুরু ১ জুন থেকে পরিবারের ৪ সদস্যকে আনতে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ ভাড়া! অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বিমান, ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৩ রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেবিচক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে বেবিচকের যে নির্দেশনা মানতে হবে

মানষিক উৎকন্ঠা নিয়ে ডিউটি করছেন বিমান কর্মীরা, করোনা টেস্ট সময়ের দাবী

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০
  • ১৭৮৯ বার

রাষ্টীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মানষিক উৎকন্ঠা নিয়ে ডিউটি করছেন। এই মুহুর্তে করোনা টেস্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যখন বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ধারণ করেছে ঠিক তখনই বিমানের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিমানবন্দরে ডিউটি করছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ফ্লাইট এরাইভাল ও ডিপার্চার দিচ্ছেন।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানাযায়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে চীন বাউন্ড সিডিউল ফ্লাইট বাদে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব রুটেই বিমান চলাচল বন্ধ যায় রয়েছে। তবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১০/১২ টি ননসিডিউল ডিপ্লোমেটিক চার্টার্ড ফ্লাইট ও কার্গো ফ্লাইট উঠানামা করে থাকে। এসব অপারেশনাল কাজে বিমানের ট্রাফিক বিভাগ, ফ্লাইট অপারেশন, জিএসই, বিএফসিসি, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিকিউরিটি, কার্গো, এমটি ও কল সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখার প্রতি শিফটে প্রায় ৬শ থেকে ৭শ বিমান কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানসিক উৎকন্ঠার মধ্যে নিয়মিত ডিউটি করছেন।

লকডাউনের এই উৎকন্ঠিত সময়ে বিমান কর্মীরা যে যেখানেই কাজ করুক না কেন প্রত্যেকেই করোনা সংক্রমনের ভয় এবং উৎকন্ঠা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অফিস জীবন কাটাচ্ছে। শুধু নিজে নয়, তার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা কোনভাবে সংক্রমিত হয়ে পরে কি না সেটাও মানসিকভাবে তাদেরকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

বিমান কর্মীদের যে কাজের ধরন সেখানে সোস্যাল ডিস্ট্যান্স মেন্টেন করা মোটেও সম্ভব না। বিশেষ করে ননসিডিউল চার্টার্ড ফ্লাইটগুলোতে গ্রাহক সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত বিমান কর্মীরা চেক ইন, বোর্ডিং, ব্যাগেজ মেকআপ- ডেলিভারী, হুইল চেয়ার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তারা যাত্রীর সন্নিকটে যেতে হয়, কথা বলতে হয়, কখনো অসুস্থ বা শারীরিকভাবে হাটতে অক্ষম এমন যাত্রীর ব্যাগেজও বহন করতে হয়, কোলে করেও তুলতে হয়। আগত বিদেশী ফ্লাইটের ক্রুদের সন্নিকটে যেতে হয়। জাহাজ লোড আনলোডে নিয়োজিত সুপারভাইজার, লোড মাস্টার, জিএসই অপারেটরদের পরস্পরের মুখের কাছে গিয়ে কথা বলতে হয়- কেননা জাহাজের ইঞ্জিনের বিকট শব্দে পরস্পরকে শুনা যায় না। ব্যাগেজ, ভারী মালামাল, কার্গো দুই তিনজনে মিলে এক সাথে লিফ্ট এন্ড ডাউন করতে হয়। এয়ারওয়ে বিল, ট্যাগ চেকিং, ভাউচার, কার্গো ডেলিভারি ইত্যাদি কর্মযজ্ঞের সাথে জড়িত কর্মচারীরা গায়ের সাথে গা লেগে কাজ করতে হয়। কার্গো ইমপোর্টতো লোকে গিজগিজ করে। হ্যাঙ্গারে ইঞ্জিনের বা জাহাজ রক্ষনাবেক্ষনের কাজ গায়ে গায়ে মিলেই করতে হয়। আগমনী বা বহির্গামী এসব যাত্রীবাহী ননসিডিউল এবং কার্গোবাহী উড়োজাহাজ লোড আনলোডের সকল প্রয়োজনীয় জরুরী সেবা দিচ্ছেন জিএসই বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিমান কর্মীরা। ফ্লাইট অপারেশন, বিএফসিসি, এমটি এবং নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরাও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উড়োজাহাজ পরিচালনা বন্ধ থাকায় উৎকন্ঠিত গ্রাহক যাত্রীদের বিভিন্ন হাজারো প্রশ্নের সমাধান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কল সেন্টারে কর্মরত বিমান কর্মীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান কর্মীরা যাদের সাথে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কাজ করে অর্থাৎ অন্যান্য প্রত্যেকটি বিদেশী এয়ারলাইন্স, দেশী এয়ারলাইন্স (ইউএস বাংলা), সিভিল এভিয়েশন, আনসার, এভসেক, ইমিগ্রেশন পুলিশ সকলেই কমপ্লিট পিপিই পরিধান করে নির্বিঘ্ন সেবা প্রদান করেছেন। কয়েকদিন পরপর তাদের করোনা টেস্ট করা হচ্ছে ও কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু বিমান কর্মীরা এতো ঝুঁকির মধ্যে কাজ করলেও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সোমবার করোনা উপসর্গ নিয়ে বিমানে জুনিয়র কমিউনিকেশন কর্মকর্তার মৃত্যু ও এক কেবিন ক্রু করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বিমানের কর্মকর্তা – কর্মচারীদের মাঝে আতংক ও উৎকন্ঠা আরো বেড়ে গেছে বলে জানাগেছে ।

বিমানের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। সেখানে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব ল্যাব ও টেকনিশিয়ান। তাই কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে সেখানেই সংস্থার কর্মীদের করোনা টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে বলে বিমানের সর্বস্তরের কর্মীদের প্রাণের দাবি।

ঈদের ছুটির কারনে এ ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাবলিক রিলেশন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
★ এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!